-নিয়মিত নামাজ় আদায়-
প্রচলিত ধারণা মুসলমানের ঘরে জ়ন্ম নিলেই মুসলমান হয়।বাস্তবে তা নয়।চৌং পরিবারে জন্ম নিলেই চৌং খেতাব নেয়া যাবে। ব্রাক্ষণের ঘরে জন্ম নিলে ব্রাক্ষণও হওয়া যায়।কিন্তু মুসলমান হতে হলে কলেমা তৌহিদকে পুরোপুরি স্বীকার করতে হবে এবং মানতে হবে।সাথে অন্যান্য কলেমার মধ্যে যে ওয়াদা আছে তা স্বীকার ও মানতে হবে।এটি ঈমানের দাবী।
যারা কলেমাকে গ্রহণ করে তাদের বাস্তব পরীক্ষা শুরু হয় নামাজ আদায়ের মাধ্যমে।এ জন্য ইসলাম ধর্মে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম।রাসূল(সাঃ) বলেছেন-‘স্বেচ্ছায় যে নামাজ ত্যাগ করলো সে কুফরি করলো’ ৩ দিনের অধিক যে স্ব ইচ্ছায় নামাজ ত্যাগ করবে শরিয়তে তার শাস্তি আছে। বিস্তারিত জেনে নিতে পারো।
আল্লাহ পাক তার কলামে ঘোষণা করেছেন-‘নামাজ অবশ্যি মানুষকে সমস্ত অন্যায় কাজ ও পাপ থেকে রক্ষা করে’। তাহলে বুঝতে হবে- যারা নামাজ পড়েও অন্যায় কাজ কর্ম ত্যাগ করতে পারেনি,তারা নামাজ থকে হেদায়াত পায়নি।
শেষ বিচারের দিনের ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে- যাদের নামাজ ঠিক হয়েছে,অন্য সবকিছু থেকে সহজে রেহাই পাবে।মুমিনের কাছ থেকে সবার প্রথমে নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।
অন্য হাদীসে এসেছে-‘নামাজ দ্বীনের স্তম্ভ’।ইহা বাদ দিলে দ্বীনের অস্তিত্ব বাকি থাকেনা।যেমন খুঁটি ছাড়া ঘর টিকেনা।
অন্য হাদীসে এসেছে-‘নামাজ মুমিনের জন্য মেরাজ’।সোবহানাল্লাহ।
আলহামদু শরীফের তফসীরে দেখো-মানষ যখন নামাজে সূরা ফাতেহা পড়ে,আল্লাহর প্রশ্রংসা করে তার জবাব দেন আল্লাহ স্বয়ং।সূরা মুমেন এর ১ম শিক্ষা- ‘তারা খুশু মনে নামাজ আদায় করে’একাগ্রচিত্তে একধ্যানে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে- এমন ভাব মনে নিয়ে নামাজ আদায়কে খুশু মনে নামাজ আদায় বলে।যেমন ইচ্ছা তেমন নামাজ আদায় করলে আল্লাহ পাকও তার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেন।
সূরা বাকারায় এসেছে-যাদের নামাজ কবুল হয়, শুভ্র আকারে (রহমত স্বরূপ) তা উপরের দিকে উঠে যায়। অথবা ধুম্র আকারে (গজব আকারে)নিচের দিকে নেমে আসে।তাই নামাজ আদায় করতে হবে যথাযথ নিয়ম কানুন মেনে।এই নামাজ থেকে হেদায়েত ও রহমত হাসীল করতে হবে।তাইলে কোন না কোন ভাবেই আল্লাহ তার বান্দাকে হেফাজত করবেনই।এরপরও যারা পরনিন্দা, মিথ্যা,গীবত,চোগলখোরী করে তাদের নামাজ কবুল হবে না। উপরের দিকে যাবে না।
রাসূল (সাঃ) যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন-বারবার বলছিলেন-সালাত,সালাত,সালাত। অর্থাৎ নামাজ,নামাজ,নামাজ।
আর জামাতে নামাজ আদায় পুরুষদের জন্য ওয়াজিব।কোন কারণ ছাড়া নামাজ তরক করা মকরূহ। রসূল(সাঃ)বলেছেন- আমার ইচ্ছা হয় জামাত খাড়া হয়ে যাওয়ার পর দেখতে কারা জামাতে শরীক হয়নি।এবং ঐ ঘরে আগুন ধরিয়ে দিতে।কিন্তু শিশু ও মেয়ে লোক থাকার কারণে বিরত থাকতে হয়।
এমনি পড়লে নামাজ আদায় হবে।জামাতে পড়লে ২৭ গুণ সওয়াব বেশী।কবুলও হয় বেশী।মর্তবাও বেশী।ইহা দৈনিক গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায়।
অন্য হাদীসে এসেছে-যারা এষার নামাজ জামাতে আদায় করবে এবং পুনঃ ফজরের নামাজও জামাতে পড়বে, তারা সারা রাত এবাদতের সওয়াব পাবে।আলহামদুলিল্লাহ।
নামাজ সম্পর্কে কোরানে ৮২ বার নির্দেশ এসেছে।হাদীসে রাসূল(সাঃ)এ আর অনেক অনেক হেদায়েত আছে।আস্তে আস্তে জেনে নিতে হবে।শারীরিক এবাদাতের প্রতি যত্নশীল হলে আল্লাহ পাক কখনো ফিরিয়ে নিতে পারেননা।আরো একটা কথা আছে-হালাল রিযিক এই সমস্ত এবাদত কবুল হওয়ার আগের শর্ত। তাই হালাল রিযিকের জন্য দোয়া চাইতে হবে সবসময়।মানুষের ভুল হবেই,তাই প্রতিনিয়ত ক্ষমা চাইতে হবে।
Sep 9, 2008
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment