Sep 15, 2008

বেহুদা কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা-২

৪।কটু ভাষণ ও গালমন্দ

মানুষকে আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন- সৃষ্টির সেরা হিসাবে। আধনিক যুগের নতুন নতুন আবিষ্কার এরই জ্বলন্ত প্রমাণ। মানুষের জ্ঞান ও মেধার কাছে সৃষ্টির কোন কিছুরই তলনা হয়না। আশা করা যায় এদিক থেকে মননশীল ও উত্তম ব্যবহারের অধিকারী হবে। কিন্তু তা না হয়ে পশুত্বের স্বভাব বিদ্যমান অনেক ক্ষেত্রে। এ জন্য মানুষের জন্য প্রেরিত আখেরি নবী মোহাম্মদ(সাঃ) বলেছেন- কোন কটুভাষী ও বদ স্বভাব বিশিষ্ট লোক জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না আরো বলেছেন- কেয়ামতের দিন আমার দৃষ্টিতে সবচাইতে অভিশপ্ত এবং আমা হতে সবচাইতে দূরে থাকবে বাচাল, অশ্লীলভাষী, ইলমের মিথ্যা দাবীদার ও অহংকারী ব্যক্তিগণ আর বদনাম করোনা বিকৃ্ত উপাধির সঙ্গে।

৫।শরমিন্দা করা

বিনা কারণে কাউকে অপদস্ত করা ভদ্রতা ও শরিয়তের খেলাফ। দোষে গুণে মানুষ। ভুল মানুষের হতেই পারে। কেউ ইচ্ছাকৃত ভুল করে, কারো ভুল হয় অজানা বশতঃ। তাই বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া কাউকে অহেতুক শরমিন্দা করা ঠিক নয়। কাউকে কিছু বলার প্রয়োজন থাকলেও সবার সামনে নয়।একান্তভাবে বসে হৃদ্যতার সাথে বলতে হবে যাতে উপকৃত হয়। কোরান বলেছে- আপন ভাইয়ের প্রতি দোষারোপ করো না।কারণ ইহা তিক্ততা সৃষ্টির উপকরণ। এতে শত্রুতা বাড়ায়।

৬।ছিদ্রান্বেষণ

কিছু কিছু মানুষের স্বভাব আছে কার কি দোষ আছে খুঁজে বের করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা। যা খুবই গর্হিত কাজ। রাসূল (সাঃ) বলেছেন- মুসলমানের দোষ খুঁজো না,কারণ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ ও গুনাহ খুঁজতে থাকে, আল্লাহ তার গোপন দোষ ফাঁস করতে লেগে যান। আর আল্লাহ যার দোষ প্রকাশ করতে লেগে যান- তাকে তিনি অপমান করেই ছাড়েন। সে তার ঘরে লুকিয়ে থাকলেও

৭।উপহাস করা-

খেলাধুলার জন্য কৌ্তুক করা আর কাউকে অপমানিত করার জন্য উপহাস করা এক নয়। ইহাও এক প্রকার চরিত্র খনন। এই দোষটির জন্য বেহেস্তের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন- লোকদের প্রতি বিদ্রুপ প্রদর্শনকারী ব্যক্তির জন্য কেয়ামতের দিন জান্নাতের একটি দরজা খোলা হবে এবং তাকে বলা হবে-ভিতরে আসন, সে কষ্ট করে সেদিকে আসবে এবং দরজায় পৌঁছতেই দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। এইভাবে কয়েকবার বেহেস্তের দরজায় পৌঁছে ও ঢুকতে না পেরে হতাশ হবে

তাই অপ্রয়োজনীয় কৌ্তক থেকেও বিরত থাকা বাঞ্চনীয়।

বেহুদা কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা

-:বেহুদা কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা:-

১।মিথ্যা বলা-

রাসূল(সাঃ) বলেছেন- মিথ্যা হলো সকল গুনাহর মা বা মূল ইহা এমন এক পাপ একটা জীবন ও একটা জাতীকে ধ্বংসের শেষ সীমানায় নিয়ে যায়। কোরান বলছে- মানুষ অতীব লোভী

দেখা গেছে বিনা প্রয়োজনে মানুষ মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। কারণে অকারণে ধোঁকা ও প্রবঞ্ছনার আশ্রয় নিচ্ছে। অতীত অনেক জাতীর ধ্বংস এই পথ দিয়েই এসেছে। মিথ্যা বলার অভ্যাশ মানুষকে গরীবি

অবস্হার মধ্যে নিক্ষেপ করে। আয় উন্নতিতে কোন একসময় ধ্বস্ নামে। আল্লাহ হেফাজত করুন আমাদের সবাইকে। আমীন।

তাই সত্য কথা বলা, সত্যের পথে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

২।গীবত

পরনিন্দা গীবতের অংশ। আড্ডায় বসলে বা বন্ধ মহলের কথোপকথনের সময় মনের অজান্তে অনেক অনেক পরনিন্দা হয়ে যায়। তা কি একবারও চিন্তা করে দেখেছি? তা কি ধরণের অপরাধ? শয়তান তো অপেক্ষায় থাকে পূর্ণ মদদ যোগাতে। এই শয়তান আল্লাহকে বলেছিল- আমি আদম সন্তানদেরকে সামনে থেকে, পিছন থেকে গোমরাহ করবো এবং জাহান্নামের বস্তুতে পরিণত করে ছাড়বো তাহলে বাঁচতে হবে এই শয়তান থেকে এবং শয়তানি ক্রিয়াকর্ম থেকে।

গীবত প্রকাশ পেলে যে কলহ শুরু হয়, তাতে অশান্তির দাবানল দীর্ঘদিন চলতে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট, পরিবারে অশান্তি, সমেজে অশান্তি। অতঃপর খুনের বন্যাও বয়ে যায়। কোরান মজিদ তাই বলছে-

তোমরা কেউ কারো গীবত করোনা। তোমরা কি কেউ আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? তোমরা(মুমিনরা) অবশ্যই ঘৃণা করবে হাদীসে রাসূল(সাঃ) বলেছেন- গীবত ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক

যার গীবত করা হয় তার কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া, স্বয়ং আল্লাহও মাফ করেননা। করতে পারেননা। যদি আমলনামায় সওয়াব থাকে তবে কেয়ামতের মাঠে গীবতকারীর সওয়াব কর্তন করা হবে। তাই আল্লাহর কোন এক নেক বান্দা (শেখ সাদী) বলেছেন- গীবত যদি করতে চাও, তবে তোমার বাবা মা-র গীবত করো। মানে যার গীবত করা হলো যদি ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ না হয় মৃত্যু অবধি তার জন্য দোয়া চাইতে হয়। তাহলে অন্যের জন্য এতো কষ্ট না করে; নিজের বাবা মা-র জন্য কষ্ট করা উত্তম নয় কি?

অতএব, এই অপ্রয়োজনীয় বাক্যালাপ থেকে আত্মরক্ষা করা একান্ত জরুরী।

৩।চোগলখোর

চোগলখোর গীবতের একটি বিশেষ রূপ।একজনের কথা অন্যজনের কাছে বিনা প্রয়োজনে কানাঘুষা করা। রাসূল(সাঃ) বলেছেন- যারা চোগলখোর তারা জান্নাতে যাবে না। এই সমস্ত বদঅভ্যাস মুনাফিকের গুণ।

মুনফিকের স্হানও জাহান্নাম।

Sep 9, 2008

দোয়া ও দরূদ

-দোয়া ও দরূদ-
সুরা আল মু’মেনুনের ২য় শিক্ষা-‘তারা (মুমিনরা) বেহুদা কথা ও কাজ থেকে বিরত রাখে’ বেহুদা কথার মধ্যে মিথ্যা বলা,গীবত করা,প্রবঞ্ছনা করা, ধোকা দেয়া, বাজে বাক্যালাপের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত করা ইত্যাদি।যা কোন কাজে আসবেনা।

হাদীস শরীফ অধ্যয়ন করলে জানতে পারবে ও বুঝতে পারবে এ সমস্ত কিছু কত বড় মারাত্মক অপরাধ এবং এর পরিণাম কি।আমি যৎসামান্য আলোচনার আশা করছি।আল্লাহ পাক তৌফিক দাতা।

সময় মানুষের জীবনে অতীবও মূল্যবান।ঠিক যেমনি দুটি চোখ মূল্যবান। ছাত্র হিসেবে নিজেকে অধ্যয়নের কাজে ব্যস্ত রাখবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তারপরও আল্লাহ পাকের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য রাসূল(সাঃ) আরো অনেক দোয়া ও জিকির শিখিয়েছেন।যেমন-খাওয়ার সময়, খাওয়ার পরে, পায়খানায় যাওয়ার আগে, ঘর থেকে বের হয়ে অন্যত্র যাওয়ার সময়, গাড়ীতে উঠলে ইত্যাদি। অতীব প্রয়োজনীয় দোয়া গুলো শিখে নেওয়া উচিত। যাতে আল্লাহর হেফাজতে নিজেকে বন্দী রাখা যায়। হেফাজতদাতা আল্লাহ ছাড়া আর কে
??

এরপরও চলতে ফিরতে আল্লাহকে স্মরণ বা জিকির করলে বা করতে পারলে আরো বেশী উপকৃত হতে পারবে। এইগুলোও রাসূল(সাঃ)শিখিয়েছেন। যেমন-
১।সোবহানাল্লাহ (আল্লাহ সকল প্রকার দোষ, ত্রুটি, ক্ষতি, স্বল্পতামুক্ত পাক পবিত্র)
২।আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশ্নংসা একমাত্র আল্লাহর)
৩।আসতাগফিরুল্লাহ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি)
৪।লা-হাওলা-ওলা-কুওয়াতা-ইল্লা-বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন শক্তি সহায় নাই)
৫।রাব্বিগফির ওয়ারহাম (হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করো, আমার প্রতি রহম করো)
৬।হাসবিয়াল্লাহু রাব্বি (আমার মালিক খোদা আমার জন্য যথেষ্ট)
৭।নেয়ামল মওলা ওয়া নেয়ামল ওয়াকিল (আল্লাহ পাক আমার সবচেয়ে উত্তম বন্ধু ও শ্রেষ্ঠ সহায়)
৮।লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া উপাস্য নাই)

সবগুলোই উঠা, বসা, চলাফেরায় জিকিরের দাবীদার।

নিয়মিত নামাজ় আদায়

-নিয়মিত নামাজ় আদায়-
প্রচলিত ধারণা মুসলমানের ঘরে জ়ন্ম নিলেই মুসলমান হয়।বাস্তবে তা নয়।চৌং পরিবারে জন্ম নিলেই চৌং খেতাব নেয়া যাবে। ব্রাক্ষণের ঘরে জন্ম নিলে ব্রাক্ষণও হওয়া যায়।কিন্তু মুসলমান হতে হলে কলেমা তৌহিদকে পুরোপুরি স্বীকার করতে হবে এবং মানতে হবে।সাথে অন্যান্য কলেমার মধ্যে যে ওয়াদা আছে তা স্বীকার ও মানতে হবে।এটি ঈমানের দাবী।

যারা কলেমাকে গ্রহণ করে তাদের বাস্তব পরীক্ষা শুরু হয় নামাজ আদায়ের মাধ্যমে।এ জন্য ইসলাম ধর্মে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম।রাসূল(সাঃ) বলেছেন-‘স্বেচ্ছায় যে নামাজ ত্যাগ করলো সে কুফরি করলো’ ৩ দিনের অধিক যে স্ব ইচ্ছায় নামাজ ত্যাগ করবে শরিয়তে তার শাস্তি আছে। বিস্তারিত জেনে নিতে পারো।
আল্লাহ পাক তার কলামে ঘোষণা করেছেন-‘নামাজ অবশ্যি মানুষকে সমস্ত অন্যায় কাজ ও পাপ থেকে রক্ষা করে’। তাহলে বুঝতে হবে- যারা নামাজ পড়েও অন্যায় কাজ কর্ম ত্যাগ করতে পারেনি,তারা নামাজ থকে হেদায়াত পায়নি।

শেষ বিচারের দিনের ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে- যাদের নামাজ ঠিক হয়েছে,অন্য সবকিছু থেকে সহজে রেহাই পাবে।মুমিনের কাছ থেকে সবার প্রথমে নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।
অন্য হাদীসে এসেছে-‘নামাজ দ্বীনের স্তম্ভ’।ইহা বাদ দিলে দ্বীনের অস্তিত্ব বাকি থাকেনা।যেমন খুঁটি ছাড়া ঘর টিকেনা।
অন্য হাদীসে এসেছে-‘নামাজ মুমিনের জন্য মেরাজ’।সোবহানাল্লাহ।

আলহামদু শরীফের তফসীরে দেখো-মানষ যখন নামাজে সূরা ফাতেহা পড়ে,আল্লাহর প্রশ্রংসা করে তার জবাব দেন আল্লাহ স্বয়ং।সূরা মুমেন এর ১ম শিক্ষা- ‘তারা খুশু মনে নামাজ আদায় করে’একাগ্রচিত্তে একধ্যানে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে- এমন ভাব মনে নিয়ে নামাজ আদায়কে খুশু মনে নামাজ আদায় বলে।যেমন ইচ্ছা তেমন নামাজ আদায় করলে আল্লাহ পাকও তার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেন।

সূরা বাকারায় এসেছে-যাদের নামাজ কবুল হয়, শুভ্র আকারে (রহমত স্বরূপ) তা উপরের দিকে উঠে যায়। অথবা ধুম্র আকারে (গজব আকারে)নিচের দিকে নেমে আসে।তাই নামাজ আদায় করতে হবে যথাযথ নিয়ম কানুন মেনে।এই নামাজ থেকে হেদায়েত ও রহমত হাসীল করতে হবে।তাইলে কোন না কোন ভাবেই আল্লাহ তার বান্দাকে হেফাজত করবেনই।এরপরও যারা পরনিন্দা, মিথ্যা,গীবত,চোগলখোরী করে তাদের নামাজ কবুল হবে না। উপরের দিকে যাবে না।

রাসূল (সাঃ) যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন-বারবার বলছিলেন-সালাত,সালাত,সালাত। অর্থাৎ নামাজ,নামাজ,নামাজ।

আর জামাতে নামাজ আদায় পুরুষদের জন্য ওয়াজিব।কোন কারণ ছাড়া নামাজ তরক করা মকরূহ। রসূল(সাঃ)বলেছেন-
আমার ইচ্ছা হয় জামাত খাড়া হয়ে যাওয়ার পর দেখতে কারা জামাতে শরীক হয়নি।এবং ঐ ঘরে আগুন ধরিয়ে দিতে।কিন্তু শিশু ও মেয়ে লোক থাকার কারণে বিরত থাকতে হয়।

এমনি পড়লে নামাজ আদায় হবে।জামাতে পড়লে ২৭ গুণ সওয়াব বেশী।কবুলও হয় বেশী।মর্তবাও বেশী।ইহা দৈনিক গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায়।
অন্য হাদীসে এসেছে-যারা এষার নামাজ জামাতে আদায় করবে এবং পুনঃ ফজরের নামাজও জামাতে পড়বে, তারা সারা রাত এবাদতের সওয়াব পাবে।আলহামদুলিল্লাহ।
নামাজ সম্পর্কে কোরানে ৮২ বার নির্দেশ এসেছে।হাদীসে রাসূল(সাঃ)এ আর অনেক অনেক হেদায়েত আছে।আস্তে আস্তে জেনে নিতে হবে।শারীরিক এবাদাতের প্রতি যত্নশীল হলে আল্লাহ পাক কখনো ফিরিয়ে নিতে পারেননা।আরো একটা কথা আছে-হালাল রিযিক এই সমস্ত এবাদত কবুল হওয়ার আগের শর্ত। তাই হালাল রিযিকের জন্য দোয়া চাইতে হবে সবসময়।মানুষের ভুল হবেই,তাই প্রতিনিয়ত ক্ষমা চাইতে হবে।

সিলেবাস

তাই নিম্নে কিছু সিলেবাস দিয়ে দিচ্ছি, আস্তে আস্তে পড়ে জেনে নিবে।
-আল-কোরান-
১।সূরা ফাতিহা-অর্থ সহ তফসির। ইহা কোরানের সারাংশ ও খুবই বরকতময়।
২।নামাজে যা পড়ো তার অর্থ এবং শিক্ষা (নামাজের হাকীকত)
৩।ত্রিশতম পারা- সূরা নাবা থেকে সূরা নাস্।বার বার পড়ো। অর্থ ও তফসির।আছে কেয়ামত ও হাশরের বর্ণনা।তওহীদ,রেসালাত ও আখেরাতে এর ব্যাপক হেদায়াত আছে।
৪।সূরা ফোরকানের শেষ রুকূ ৬৪ নং আয়াত থেকে ৭৭ নং- ১৩টি মুমিনের গুণাবলী।
৫।সূরা মূ’মেনুন-এর ১ নং থেকে ১১ নং আয়াত। এতে ৭টি গুণ আছে। যে গুণগুলো মেনে চললে আল্লাহর পক্ষ থেকে বেহেস্তের ওয়াদা আছে।
৬।আল্লাহর হক ও বান্দার হক-মৌং আব্দুর রহীম।


-আল-হাদীস-

১।হাদীসের আলোকে মানব জীবন। মৌং ইউসূ্ফ-১ম খন্ড
অথবা রাহে আমল-১ম ও ২য় খন্ড।
২।রিয়াদুস সালেহীন। ইমাম নববী (রাঃ) ১ম-৪র্থ খন্ড। একান্ত জরুরী হাদীস। (বাসায় কিনে রেখো)

-মহা পুরুষের জ়ীবনী-
১।হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের উপর- সিরাতে ইবনে হীসাম।
২।সাহাবাদের জীবন কথা।১ম,২য়,৩য়। -আব্দুল মাবুদ।

Sep 1, 2008

দুইঃঅহীর জ্ঞান অর্জন

।।দুইঃঅহীর জ্ঞান অর্জন।।
দৈনিক ২৪ ঘন্টা কি ভাবে ব্যয় হয় হিসাব নিলে দেখা যাবে ঘুম আর বেহুদা ও কাজকর্মে অর্ধেকের বেশী সময় ব্যয় করছি।অথচ এই সময়ের হিসাব একদিন দিতেই হবে।তাহলে আমি কি পারিনা ১৫ মিনিট আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ)এর খাতিরে ব্যয় করতে?? নিশ্চয়ই পারা যাবে।প্রয়োজন নিজের আগ্রহ ও উদ্দম।দিনের যে কোন সময় নামাযের পর, হাতের উপর তুলে নাও- ১)পবিত্র কোরান ২)একখন্ড হাদীসে রাসূল(সাঃ)

বেশী নয় একটি বা দুটি আয়াত অর্থসহ,সম্ভব হলে টিকা সহ পড়। তারপর হাদীসে রাসূল(সাঃ)থেকে ২টি হাদীস নিজে পড়।মন্হর গতিতে এগিয়ে যাও।এই নিয়ম চালু রাখো আজীবন।পাবে সরল পথের সন্ধান, আর এমন আত্মার শান্তি যা আর কিছুতে নাই।

অন্য হাদীসে রাসূল(সাঃ)-
এ এসেছে যারা এইভাবে কোরান ও হাদীস থেকে ঙ্গান আহরণ্ন করতে থাকবে, কবরেও দুজন ফেরেস্তা তাদের দ্বীনের পূর্ণ দিতে থাকবেন।তাই এই অহীর জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ করেছেন।
আর এই জ্ঞান বাদ দেয়ার কারণেই মুসলমানেরা অপমানিত ও অধঃপতিত।আর কেয়ামতের মাঠে ১ দিন সমান হবে
১০০০ বছরের সমান।একমাত্র ওরাই আরশের ছায়ায় স্হান পাবে যারা কোরান ও হাদীসে রাসূল (সাঃ)এর শিক্ষা নিয়েছে এবং জীবনকে ঐভাবে কাটিয়েছে।বা একান্তভাবে চেষ্টা করেছে।কোরান মজীদে আল্লাহ পাক বলেছেন- “হে ঈমাদারগণ, তোমরা নিজেকে ও নিজের পরিবার পরিজনকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করো,যে দোযখের ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।”- সূরা বাইয়েনা-৬।(২৮ পারার শেষ সূরার ৬ নং আয়াত)
মানুষের দুনিয়ার জিন্দেগী স্বল্পকালের।আখেরাতের জীবনের শেষ নেই।ইহা অনন্তঃ সুখ সমৃদ্ধ।
আল্লাহ পাক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।কোরান বলছে-
‘আমি মানুষ ও জ্বীনকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার গোলামী করার জন্য’ তাই এমন কোন কাজ কর্মে অংশ গ্রহণ করা ঠিক হবে না যাতে আল্লাহ নারাজ হন।আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ)এর আনুগত্যের মাধ্যমে মানুষ কল্যাণ প্রাপ্ত হবে দূনিয়া ও আখিরাতে।

Aug 31, 2008

একঃ একাডেমিক জ্ঞান অর্জন

।।একঃ একাডেমিক জ্ঞান অর্জন।।

যে কোন কিছু অর্জন করতে সময় লাগে। প্রাথমিক শিক্ষার পর শুরু হয় মাধ্যমিক।তারপর উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্রমধারা।নিজেকে একজন উচ্চ শিক্ষিত যুবক হিসেবে দেখতে চাইলে অবশ্যি আরও কয়েটা বছর অধ্যবসায় চালিয়ে যেতে হবে।যতই উপরের দিকে যাবে পড়ার অংগন ব্যাপক।তাই পাক প্রস্তুতি যাদের ভালো তাদের বেগ পেতে হয় না।বাংলা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন আমার পছন্দের বাইরে।ভাল বিষয়ে পড়তে চাইলে ইংলিশে ভাল দক্ষতা আগে ভাগে অর্জন করতেই হবে।তাই হেলা না করে একজন ভাল দক্ষ শিক্ষকের কাছে লিখার ও বলার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে এদিক ওদিক যাবে।প্রাকৃ্তিক দৃশ্য দেখবে।তাতেও জ্ঞানের উন্মেষ ঘটে।কিন্তু অধিক সময় একাডেমিক জ্ঞান অবগাহনে নিজেকে ব্রত হতে হবে।ইহা এমন এক দক্ষতা কোন ধনরত্ন দিয়ে যা কিনতে পাওয়া যায় না।ধন শেষ হয়ে যেতে পারে কিন্তু নিজের জ্ঞান,মেধা,প্রঙ্গার শেষ নেই।ইহা অর্জিত হওয়া মানে নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার যোগ্যতা অর্জন করা।আমার একান্ত ইচ্ছা ও আকাঙ্খা একজন প্রতিভাবান উচ্চ শিক্ষিত মানুষ হিসেবে তোমাকে পাওয়া।তাই আগ্রহ নিয়ে অধ্যবসায় করে যাও।

চিন্তা ও পথ

চিন্তা ও পথ
ফেব্রুয়ারী,১৯৯৭ইং
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ পাকের নামে শুরু করছি এবং দরূদ ও সালাম জানাই তারই পেয়ারা নবী এবং বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) এর প্রতি।

আলহামদুলিল্লাহ। অবশ্যই সমস্ত প্রশংসা তারি প্রাপ্য।কারন তারই হাতে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ।মানুষের হায়াত,মউত, রিযিক ,জান,সম্মান,জ্ঞান সবই তারই করায়ত্বে। মানুষকে যতটুকু জ্ঞান দিয়েছেন এর বেশি কিছুই বুঝা বা জানা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সবকিছুতে এবাদতের যোগ্য আল্লাহ ছাড়া আর কেও নন।

তাই অবনত মস্তকে তারি দরবারে জানাই শুকরিয়া যিনি আমার আদরের শিশুটিকে ধীরে ধীরে বড় হতে করুণা করেছেন।আস্তে আস্তে জ্ঞানের জগতে বিচরণ করার জন্য বুদ্ধি , বিবেকের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন। আজ এস.এস.সি পরিক্ষার্থী কাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে সমাজ
জীবনে পা বাড়াবে।এই আশা আকাঙ্খা নিয়েই মানুষ এতো পরিশ্রম করে।নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।পরিচিতি লাভ করে।সম্মানের পদে নিজেকে বসাতে সক্ষম হয়।

এই পথ সহজতর নয়।বহু পরিশ্রম ও ত্যাগের দরকার।আল্লাহ পাকের বিশেষ রহমত ছাড়া অতটুকুন অর্জন অসম্ভব। কারণ এই পথটি একটু পিচ্ছিল।অনেককে দেখেছি জ্ঞানের এই রাস্তায় সঠিক ভাবে টিকে থাকতে পারেনি। অনেকেই হয়েছে বিপদগামী। সন্ত্রাসী কাজ-কর্মের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে পড়েছে যে হিংস্র জানোয়ারের চেয়েও খারাপ তার স্বভাব চরিত্র। মানুষ অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে, বাঁকা চোখে দেখে, তবুও কিছুই বলেনা।বলার সাহসও নাই।প্রশাসনও নীরব।অথচ এটা খুব সুন্দরভাবেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।তাহলে উপায় কি??হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবো কি ঘরে??
না, একটা সুন্দর পথ ও পন্থা ধরে এগিয়ে যেতে হবে।

আজকে আমার মতো আরো আনেক অভিভাবক হতাশ ও চিন্তাযুক্ত।সবসময় চিন্তায় অস্হির থাকেন কলেজ থেকে, বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে নিজ ছেলে মেয়ে নিরাপদে ফিরছে কিনা!!ছোটকাল থেকেই তুমি অনেক দূরে।ওরা কি শিখতে পারলো জানিনা।শুধু সার্টিফিকেট দিয়ে সব কিছু হয় না।যদি তাই হতো দেশে যারা প্রশাসন চালাচ্ছে তাদের চরিত্র উন্নত নয় কেন?? অথচ বাংলাদেশের ৯০% লোক মুসলিম।মুসলমান তাদের বলা হয় যারা আল্লাহ পাকের ন্যায় নীতির কাছে আত্ম সমর্পন করে এবং জীবনকে সঁপে দেয়। কিন্তু বড্ড অনুতাপের বিষয় কলেজ,বিশ্ব বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট অর্জন করে নিজেদের চরিত্র উন্নত করাতো দূরের কথা বরং নিজের ধ্বংস করে চলেছে।ইহার একমাত্র কারণ আর কিছুই নয় আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ)এর শিক্ষাকে অবজ্ঞা।

তাই প্রবাস জীবনে বসে কলম হাতে নিয়েছি।যাতে এমন কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান, পথ ও পন্হার সন্ধান দিতে পারি যার বিনিময়ে এই নশ্বর পৃথিবীতে সুন্দর ও প্রশংসনীয় জীবনের সন্ধান পাও এবং আখেরাতে ও আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ)এর সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হও।
আল্লাহ পাক তৌফিকদাতা।

ইহাই আমার পাওয়া এবং সাধনা তোমাদের পিছনে।আল্লাহ পাকের কাছে পুনঃ তৌফিক কামনা করছি যাতে কিছু হেদায়েত মূলক বক্তব্য লিখতে পারি।

কোন মানুষ ওহীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে না- যতক্ষণ না আল্লাহর রহমত করণা বর্ষিত হয়। অহীর জ্ঞান মূলত এক প্রকারই- নূর! কোন মানুষ যখন ইহা আয়ত্ব করতে পারে দুনিয়ার সবকিছুই তখন তার আয়ত্বে চলে আসে। ইহাই ওহীর জ্ঞানের মোযেজ়া।
পিপড়া বসবাস করে এমন জায়গায় এক ফোটা মধু ফেলে দাও, দেখবে আস্তে আস্তে সব পিপড়া জড়ো হয়েছে।ইহা শুধু মধুর মোযেজ়া। অনুরূপ অহীর জ্ঞানে যারা সমৃদ্ধ তাদের কাছে মানুষ ভীড় করবেই।মানুষ কেন!! জানোয়ার ও তাকে স্মমান করে চলে।জ়েনে নিও কারো কাছে।
(পৃষ্ঠা ১-৬)

Aug 30, 2008

উপলব্ধি

।।বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।।

।।স্নেহের বাবা S-এর প্রতি কিছু উপদেশ।।

-উপলব্ধিঃ-

একটি গাছ একদিনে বড় হয় না।মানু্ষকেও জানতে হয়, বুঝতে হয় ধীরে ধীরে। যা লিখছি একদিনেই বুঝতে হবে এমন নয়। আস্তে আস্তে আয়ত্বের চেষ্টা করতে হবে।নিজের আগ্রহ ও প্রচেষ্টা হবে আসল। জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে এইভাবে।

আল্লাহ পাক তৌফিকদাতা।

“বুদ্ধিমান ঐ ব্যক্তি যে তার নফসকে অনুগত বানায় এবং মওতের পর (যা পাবে)সে উদ্দেশ্যে আমল করে।” আল- হাদীস।

ছবি- ডায়েরী দুটি...