-:বেহুদা কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা:-
১।মিথ্যা বলা-
রাসূল(সাঃ) বলেছেন- “মিথ্যা হলো সকল গুনাহর মা বা মূল” ইহা এমন এক পাপ একটা জীবন ও একটা জাতীকে ধ্বংসের শেষ সীমানায় নিয়ে যায়। কোরান বলছে- “মানুষ অতীব লোভী”
দেখা গেছে বিনা প্রয়োজনে মানুষ মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। কারণে অকারণে ধোঁকা ও প্রবঞ্ছনার আশ্রয় নিচ্ছে। অতীত অনেক জাতীর ধ্বংস এই পথ দিয়েই এসেছে। মিথ্যা বলার অভ্যাশ মানুষকে গরীবি
অবস্হার মধ্যে নিক্ষেপ করে। আয় উন্নতিতে কোন একসময় ধ্বস্ নামে। আল্লাহ হেফাজত করুন আমাদের সবাইকে। আমীন।
তাই সত্য কথা বলা, সত্যের পথে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
২।গীবত
পরনিন্দা গীবতের অংশ। আড্ডায় বসলে বা বন্ধ মহলের কথোপকথনের সময় মনের অজান্তে অনেক অনেক পরনিন্দা হয়ে যায়। তা কি একবারও চিন্তা করে দেখেছি? তা কি ধরণের অপরাধ? শয়তান তো অপেক্ষায় থাকে পূর্ণ মদদ যোগাতে। এই শয়তান আল্লাহকে বলেছিল- ‘আমি আদম সন্তানদেরকে সামনে থেকে, পিছন থেকে গোমরাহ করবো এবং জাহান্নামের বস্তুতে পরিণত করে ছাড়বো’। তাহলে বাঁচতে হবে এই শয়তান থেকে এবং শয়তানি ক্রিয়াকর্ম থেকে।
গীবত প্রকাশ পেলে যে কলহ শুরু হয়, তাতে অশান্তির দাবানল দীর্ঘদিন চলতে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট, পরিবারে অশান্তি, সমেজে অশান্তি। অতঃপর খুনের বন্যাও বয়ে যায়। কোরান মজিদ তাই বলছে-
‘তোমরা কেউ কারো গীবত করোনা। তোমরা কি কেউ আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? তোমরা(মুমিনরা) অবশ্যই ঘৃণা করবে’। হাদীসে রাসূল(সাঃ) বলেছেন- ‘গীবত ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক’
যার গীবত করা হয় তার কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া, স্বয়ং আল্লাহও মাফ করেননা। করতে পারেননা। যদি আমলনামায় সওয়াব থাকে তবে কেয়ামতের মাঠে গীবতকারীর সওয়াব কর্তন করা হবে। তাই আল্লাহর কোন এক নেক বান্দা (শেখ সাদী) বলেছেন- ‘গীবত যদি করতে চাও, তবে তোমার বাবা মা-র গীবত করো’। মানে যার গীবত করা হলো যদি ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ না হয় মৃত্যু অবধি তার জন্য দোয়া চাইতে হয়। তাহলে অন্যের জন্য এতো কষ্ট না করে; নিজের বাবা মা-র জন্য কষ্ট করা উত্তম নয় কি?
অতএব, এই অপ্রয়োজনীয় বাক্যালাপ থেকে আত্মরক্ষা করা একান্ত জরুরী।
৩।চোগলখোর
চোগলখোর গীবতের একটি বিশেষ রূপ।একজনের কথা অন্যজনের কাছে বিনা প্রয়োজনে কানাঘুষা করা। রাসূল(সাঃ) বলেছেন- “যারা চোগলখোর তারা জান্নাতে যাবে না”। এই সমস্ত বদঅভ্যাস মুনাফিকের গুণ।
মুনফিকের স্হানও জাহান্নাম।

No comments:
Post a Comment